মাতৃভাষা মানুষের জন্য আল্লাহ তা'আলার সেরা দান বা অনুগ্রহ / রেজাউল করিম-শুবাচ


মাতৃভাষা আল্লাহর সেরা দান। মানুষের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার এবং মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা। তাইতো ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা সংস্কৃতি ও ভাষা।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা সুরা রূমের ২২ নং আয়াতে উল্লেখ করেন, ‘আর মহান আল্লাহর নিদর্শসমূহ হতে (একটি নিদর্শন হলো) আসমান ও জমিন সৃষ্টি এবং মানুষের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা। এর মধ্যে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য উপদেশ রয়েছে। 
আবার মানুষকে দুনিয়ার গোমরাহী থেকে সত্যের পথ দেখানোর জন্য আল্লাহ তা'আলা যুগে যুগে অনেক নবি রাসুল প্রেরণ করেছেন। যাদের প্রত্যেককেই তিনি স্বজাতির ভাষায় সত্য বিধানসহ এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যাতে তাঁরা মানুষের মাঝে তাওহিদের প্রচার-প্রসারের কাজ সহজে করতে পারে।তাইতো আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক নবি-রাসুলকেই তার গোত্রের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে আল্লাহ তা'আলা উল্লেখ করেন, ‘আর আমি প্রত্যেক পয়গম্বরকেই (নবি-রাসুলগণকে) স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে করে তাদের পরিষ্কার (আল্লাহর বিধান) বুঝাতে পারে। (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৪)।ভাষার গুরুত্বের প্রয়োজনীয়তা আমরা কুরআনেই দেখতে পাই। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম ভাষার গুরুত্ব উপলব্দি করে সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় কথাবার্তা বলার জন্য তার ভাই হজরত হারুন আলাইহিস সাল্লামকে নিজের সঙ্গী করার জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।কারণ তিনি উপলব্দি করেছিলেন যে, সুন্দর ও প্রাঞ্জল ভাষায় আল্লাহর একত্মবাদ ও দ্বীনের বক্তব্যকে উত্তম বচন ভঙ্গিতে তৎকালীন সম্রাট ফেরাউন ও তাঁর সঙ্গীদের নিকট তুলে ধরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।হজরত মুসা আলাইহিস সাল্লামের এ বিষয়টিকে আল্লাহ তা'আলা কুরআনে এভাবে উল্লেখ করেন, ‘আমার ভাই হারুন, তিনি আমার থেকে অনেক বেশি প্রাঞ্জল ভাষী। তাই আপনি তাকে আমার সহযোগী করে প্রেরণ করুন; যাতে সে আমাকে (দাওয়াতের ক্ষেত্রে তার প্রাঞ্জল ভাষার দ্বারা) সত্যায়িত করে। কেননা আমি আশঙ্কা করছি (আমার বক্তব্য সত্য হওয়া সত্বেও) তারা আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ৩৪)। 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মায়ের ভাষায় কথা বলতে গর্ববোধ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আরবদের মধ্যে আমার ভাষা সর্বাধিক সুন্দর। তোমাদের চেয়েও আমার ভাষা অধিকতর মার্জিত ও সুফলিত।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে উন্নত ও মার্জিত ভাষায় কথা বলতেন। কারণ তিনি আরবের সবচেয়ে মার্জিত ভাষার অধিকারী সাদিয়া গোত্রে (শিশুকালে ভাষা রপ্ত করার সময়) লালিত পালিত হয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি বলতেন, ‘আমি সর্বাধিক সুফলিত ভাষায় আমার ভাব বিনিময় করছি।সুতরাং মাতৃভাষা মানুষের জন্য আল্লাহ তা'আলার সেরা দান বা অনুগ্রহ। তাইতো ভাষা নিয়ে গর্ব করা যায়। মাতৃভাষাচর্চা ও একে উন্নত করার অধিকার সবার একান্ত কর্তব্য। মাতৃভাষাচর্চা ও রক্ষাও প্রত্যেকের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। 
মহান আল্লাহ বাংলা ভাষাভাষী সবাইকে ভাষার গুরুত্ব উপলব্দি করে তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তা'আলা সব ভাষা শহিদদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।

Comments

Popular posts from this blog

শুবাচ / ম্যানুয়েল ত্রিপুরা

সাইন বোর্ডে অশুদ্ধ বানান অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হোক / শুবাচ