ভাষা দিবসের শপথ / নিয়াজ খান - শুবাচ
২১শে ফেব্রুয়ারিতে আমরা প্রতিটি বাঙালি অনুপ্রাণিত হয়ে শপথ নিচ্ছি, যেন আমরা বাংলায় যথাসম্ভব সঠিক উচ্চারণ করি এবং শুদ্ধভাবে লিখি। স্ত্রীকে বা স্বামীকে এবং
ছেলেমেয়েদের বাংলা বানান ও উচ্চারণ করতে সাহায্য করি। বাঙালিদের সাথে বাংলায় কথা বলি। মনে রাখতে হবে আমাদের একটিই ভাষা এবং তা হচ্ছে বাংলা। এর সঠিক প্রয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণ আমাদেরই দায়িত্ব। প্রত্যেকের নিজের দায়িত্ব ভুলে গেলে কি চলে? আজকাল ডিজিটাল মাধ্যমে অনেকেই বাংলাকে ইংরেজি বর্ণপঞ্জীতে লিখছেন। এটা গুরুতর অন্যায়। বাংলা কী-বোর্ড ডাউনলোড করে নিন, বাংলায় লিখুন। কোনো শব্দ বাংলায় না জানা থাকলে অভিধান দেখে নিন অথবা ইংরেজি শব্দ ইংরেজি বর্ণপঞ্জীতে লিখুন।
এই প্রবন্ধের লেখক নিয়াজ খান
আর একটা কথা। ফেসবুক বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে গল্প, কবিতা ইত্যাদি লিখে পোস্ট করার আগে অভিধান দেখে নিন। ভুল বানান দিয়ে কবিতা লিখলে কতিপয় বন্ধু আপনাকে কবি বললেও বাংলা আপনাকে ক্ষমা করবে না। যারা কবিতার ছন্দে অন্ত্যমিল করেন, তারা ছন্দ প্রকরণ দেখে নেবেন।
প্রায়ই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের অনেক বাঙালি কপিরাইট অমান্য করে ইউটিউবে বিখ্যাত শিল্পীদের কতিপয় গান একত্রিত করে এলবাম হিসেবে আপলোড করছে। সেখানে কভার পেজে অসংখ্য বাংলা বানান ভুল। দৃষ্টিকটু লাগে।
শুবাচ প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মদ আমীন
আজকাল বাঙালিরা বাংলাদেশে ও অন্যান্য দেশে, দিবস-দিবস করে অহর্নিশ পাগলপ্রায়। বাবা মার অনেক টাকা খরচ করে তারা ফ্যাশন করতে চায় এবং সংস্কৃতিমনা হতে চায়। মনে হচ্ছে, দিবস-রজনী ওরা যেন দিবসের আশায় থাকে। তাই এদেশে তীব্র শীত এবং চারিদিকে তুষারপাতের মধ্যেও বাঙালিরা পহেলা ফাল্গুন পালন করছে। ফাগুন এসেছে মনে (বনে নয়)।
অধিকাংশ যুবক যুবতীরা সাজ পোশাক পরে, একুশের গান বাজিয়ে/গেয়ে, অন্যান্য দিবসের মত এটাকেও দিবসের স্রোতে ভাসিয়ে দিতে চায়। কিন্ত দিবসটি পালিত হলে, নিজের বাংলা ভাষা প্রয়োগের দায়িত্বটিও ভুলে যায়। অনেকে ভাষাকে বলে "বাশা"।
হায়রে বাঙালি! রয়েছ বাঙালি হয়ে, বাংলাকে না জেনে।
এ ব্যাথা কোথায় ঢেকে রাখি?
অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক
————————————————-


Comments
Post a Comment